🇸🇦 🇺🇸 🇮🇷 🇾🇪 সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে ১০০-২০০ জন সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে।
এই উপদেষ্টারা সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছেন না বা বোমা ফেলছেন না। তাদের মূল কাজ হলো সৌদি সামরিক বাহিনীকে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা এবং লক্ষ্যবস্তু (Targeting) নির্ধারণে সাহায্য করা। এর মাধ্যমে রিয়াদ যেন তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক বা আক্রমণাত্মক অপারেশনগুলো আরও নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে পারে, সেটাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মার্কিন ও পশ্চিমা গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে ইয়েমেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর উল্লেখযোগ্য সদস্যের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হুথি বা আনসারুল্লাহ আন্দোলনকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করা বা মিসাইল প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ইরানি উপদেষ্টারা ভূমিকা রাখছেন। তবে ইরান বরাবরই ইয়েমেনে সরাসরি সামরিক উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে ইয়েমেনের লোহিত তীরবর্তী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোখা (Mokha বা Al-Makha) বন্দর দখল করে নিয়েছে হুথি (আনসারুল্লাহ) আন্দোলন। সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও জাতীয় প্রতিরোধের (National Resistance) সাথে তীব্র সংঘর্ষের পর এই অগ্রগতি অর্জন করেছে তারা।
সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল এই মোখা বন্দর। হুথিদের তীব্র আক্রমণ এবং মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সরকারি বাহিনী ও তারেক সালেহের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী শহরটি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং শহরের দক্ষিণে বিকল্প কমান্ড সেন্টার স্থাপন করে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জুকার দ্বীপের (Zuqar Island) নিয়ন্ত্রণও হুথিদের হাতে চলে গেছে বলে জানা গেছে।
হুথিরা কেবল মোখা বন্দরই দখল করেনি, বরং তায়েজ (Taiz) থেকে মোখাগামী মূল সড়কটিও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এর ফলে সরকারি বাহিনীর সাপ্লাই চেইন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।
মোখা বন্দরের পতন লোহিত সাগরের কৌশলগত সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। বাবে আল-মান্দেব প্রণালীর অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় এই বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়া মানে পুরো জলপথের ওপর তাদের একচ্ছত্র চাপ তৈরি হওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালীটি তুলনামূলক সংকীর্ণ হওয়ায় হুথিরা এখন প্রয়োজনবোধে সাধারণ কামান বা স্বল্পপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করেই এই রুটের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারগুলোর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা হুমকি তৈরি করতে পারবে।
এই বড় ধরনের অভিযানের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের দীর্ঘদিন ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হয়েছে। দুপক্ষের সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও তাদের মিত্ররা আঞ্চলিক বাণিজ্য রুট এবং নিজেদের তেল স্থাপনা রক্ষায় এখন আরও বেশি চাপের মুখে রয়েছে। এ কারণেই সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে সামরিক উপদেষ্টা পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য এই হুথি অগ্রাভিযান ঠেকানো বলে মনে করা হচ্ছে।#
