🇺🇸/🇮🇱/🇮🇷 যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইসরায়েলকে অনুরোধ করেছিল যেন তারা যৌথ অভিযানের বদলে ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা হামলা পরিচালনা করে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে সরাসরি হামলায় অংশ নিত, তবে একে সরাসরি “যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ” হিসেবে দেখতেন ভোটাররা। এতে মার্কিন সেনাদের জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হতো এবং মার্কিন প্রশাসনের ওপর সরাসরি চাপ আসত।
যুক্তরাষ্ট্র যদি বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে ইসরায়েলকে একতরফা আক্রমণ করতে দেয়, তবে রাজনৈতিক দায়ভার ওয়াশিংটনের ওপর কম পড়ে। তারা এটাকে “ইসরায়েলের নিজস্ব আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ” হিসেবে দেখাতে পারত।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সরাসরি হস্তক্ষেপে যুদ্ধ বড় আকার ধারণ করলে এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে যায়। তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়ে, যা ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করে এবং তৎকালীন মার্কিন সরকারের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দেয়। ওয়াশিংটন চেয়েছিল মার্কিন নির্বাচনের আগে এই মূল্যস্ফীতির রাজনৈতিক ঝুঁকিটা পুরোপুরি ইসরায়েলই বহন করুক।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, যৌথ বা একক যেভাবেই হোক, ইরানের ড্রোন ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুত পুনর্গঠন থামানো সামরিকভাবে জরুরি ছিল। মার্কিন প্রশাসন সামরিক দিক থেকে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু নিজেদের সরাসরি অংশ না নিয়ে ইসরায়েলকে দিয়ে কাজটা করাতে চেয়েছিল।
বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো একতরফা পূর্ণাঙ্গ হামলা চালাচ্ছে না; কারণ আইডিএফ চিফ অফ স্টাফ ইয়াল জামিরের জোরালো আপত্তির মুখে ওয়াশিংটন নিজেই তাদের সেই চাপ বা প্রস্তাব থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছে।
আইডিএফ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, ইসরায়েল যদি একা এই মুহূর্তে বড় ধরনের হামলা চালায়, তবে ইরান তীব্রভাবে পাল্টা আক্রমণ করবে। এর ফলে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হবে, তাতে ইসরায়েলকে তাদের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করতে বাধ্য হতে হবে। নেতানিয়াহু সরকার ও সামরিক নেতৃত্ব নিজ দেশের এই অভ্যন্তরীণ ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রের ওই একতরফা প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।
ওয়াশিংটন বুঝতে পেরেছিল যে ইসরায়েলকে একতরফা হামলায় বাধ্য করলে উল্টো হিতে বিপরীত হতে পারে এবং কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল নাও হতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে ওয়াশিংটন সেই দাবি থেকে সরে আসে।
ওয়াশিংটন চেয়েছিল “সাপও মরুক, লাঠিও না ভাঙ্গুক”। অর্থাৎ—ইসরায়েল একাই হামলা চালিয়ে ইরানের ড্রোন/ মিসাইল কারখানা ধ্বংস করে দিক, আর সেই হামলার ফলে সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা ও তেলের দাম বাড়ার রাজনৈতিক ঝুঁকিটা ইসরায়েলই সামলাক—যাতে মার্কিন নির্বাচন এবং মার্কিন বাহিনীদের ওপর এর সরাসরি কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
তথ্যসূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
