সম্প্রতি আবুধাবিতে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইয়েমেনে আনসার আল্লাহ (হুথি) বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যে আবুধাবি, রিয়াদ এবং তেল আবিবের জন্য যৌথ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় এই শক্তিগুলোর মধ্যে অপ্রকাশ্য ও প্রকাশ্য অংশীদারিত্ব তৈরি হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন সংঘাতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীগুলোকে বিশেষ করে জিয়ান্ট ব্রিগেডকে আবার আর্থিক সহায়তা ও বেতন প্রদান শুরু করতে সম্মত হয়েছে।
এর বিনিময়ে সৌদি আরব এই দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনীগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ও এয়ার কভার সরবরাহ করবে।
ইয়েমেনের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (STC) সমর্থক খালেদ আল-ইয়ামানি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, সৌদি আরবকে দক্ষিণ ইয়েমেন সংক্রান্ত তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন করতে হতে পারে।
আমিরাত-প্রশিক্ষিত এবং একসময় STC-র সঙ্গে সম্পর্কিত জায়ান্ট ব্রিগেড ইয়েমেনের সবচেয়ে সজ্জিত, অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য শৃঙ্খলিত বাহিনীগুলোর একটি। হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা রুখে দিতে এই বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া রিয়াদ সমর্থিত বাহিনীর পক্ষে মাঠ ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত দিক নিয়ে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়। এর জেরে আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের অপারেশন গুটিয়ে নেয় এবং স্থানীয় মিত্রদের ফান্ডিং বন্ধ করে দেয়।
আনসার আল্লাহ (হুথি) বাহিনীর হঠাৎ তীব্র আক্রমণ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর মারিব ও তায়েজ দখলের জোরদার অভিযানের কারণে দুই উপসাগরীয় দেশের নীতিনির্ধারকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই অভিন্ন হুমকিই তাদের পুরোনো দূরত্ব ভুলে পুনরায় জোটে ফিরতে বাধ্য করেছে।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের ক্রুজ মিসাইল, ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব লাগাতার হামলার কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো এবং প্রধান তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বা আংশিক ব্যাহত হয়েছে, যা সৌদি অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
কয়েকদিন আগে রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের মিসাইল হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছে। ইয়েমেনের প্রচণ্ড হামলায় সৌদি প্রিন্স সালমানকেও বিভিন্ন বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
হুথিদের তীব্র আক্রমণ ও কৌশলগত শহরগুলোর দিকে তাদের অগ্রযাত্রা সৌদি আরব ও আমিরাত উভয়ের জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাতে লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই জোটকে পুনরায় একীভূত হতে বাধ্য করেছে।
তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান
ছবি: এফপি
