🇶🇦 🇺🇸 বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার এখন মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ (QatarEnergy) বর্তমানে সচল এবং নির্মাণাধীন—উভয় ধরনের মার্কিন প্রকল্প থেকেই গ্যাস নেওয়ার কথা ভাবছে।
সংঘাতের শুরুর দিকে কাতারের রাস লাফান (Ras Laffan) এলএনজি কমপ্লেক্সে—যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি প্ল্যান্ট—ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি পুরোপুরি মেরামত করতে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী কাতারের রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ কমে গেছে! বিগত বছরের একই সময়ে যেখানে ৫০৯টি চালান পাঠানো হয়েছিল, সেখানে যুদ্ধকালীন ছয় মাসে মাত্র ১৮টি চালান পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে তাদের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাস ট্যাংকারগুলোর নিয়মিত চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় কাতারের নিজস্ব রপ্তানি প্রায় থমকে গেছে। অথচ একসময় কাতার বিশ্ব বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলএনজির চাহিদা মেটাত।
যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সাথে করা চুক্তিগুলো বজায় রাখতে কাতার বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের এই কৌশল নিয়েছে। ইতিপূর্বে টেক্সাসের গোল্ডেন পাস (Golden Pass) এলএনজি টার্মিনালে কাতারের অংশীদারিত্ব থাকলেও, বর্তমান সংকটের কারণে তারা সামগ্রিকভাবে এই বিকল্প বাণিজ্যিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ, আনাতলি এজেন্সি
