🇸🇦 🇾🇪 ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী (আনসারুল্লাহ) এবং সৌদি সমর্থিত ও ভাড়াটে বাহিনীর মধ্যকার সংঘাতে সাম্প্রতিক সময়ে আনসারুল্লাহ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
সৌদি জোটের ভাড়াটে বাহিনীর একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে পতন ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আনসারুল্লাহ বাহিনী তাইজ শহরের চারপাশের ঘিরে থাকা বলয় আরও কঠোর করেছে। বিশেষ করে আল-মাকাজমা (Al-Makazma) এবং আল-আক্কাদ (Al-Akkad) এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলের অবশিষ্ট সরবরাহ লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে, যাতে পরবর্তীতে শহরটিকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সৌদি সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিতাড়িত করা যায়।
সৌদি সমর্থিত হামাদ নাসের মুনিফ (@hamadnaserm) নামক হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সৌদি-সমর্থিত বা ভাড়াটে বাহিনীর ৫৫তম ব্রিগেড (55th Brigade)-কে এই সংঘাতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সানা তথা আনসারুল্লাহ বাহিনী এই ব্রিগেডের ওপর সফল অভিযান চালিয়ে তাদের ৩০০ জনেরও বেশি সদস্যকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক করেছে।
বন্দি করার পাশাপাশি ওই ব্রিগেডের বেশ কিছু সাঁজোয়া যান (armored vehicles) এবং অস্ত্রভাণ্ডার বা ডিপো পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে সানা বাহিনী।এর আগে আনসারুল্লাহর এই ঝটিকা আক্রমণ এবং সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করার কৌশল যে কতটা নিখুঁত ছিল, এই ৩০০+ সেনা আটকের ঘটনাটি তারই বড় প্রমাণ। এর ফলে ওই ফ্রন্টে সৌদি সমর্থিত জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, আকাশ প্রতিরক্ষায় আনসারুল্লাহ বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তারা সৌদি জোটের তিনটি ড্রোন বা সশস্ত্র reconnaissance aircraft ভূপাতিত করেছে:
🔹আল-বায়দা প্রদেশের আকাশসীমায় একটি “উইং লুন ২” (Wing Loong II) ড্রোন।
🔹আল-জউফ গভর্নরেটের খাব ওয়া আশ-শা’আফ এলাকায় একটি “সিএইচ-৪” (CH4) ড্রোন।
🔹তাইজ গভর্নরেটের মাকাবনার উত্তর-পশ্চিমে আরেকটি “উইং লুন ২” ড্রোন।
মানচিত্রটিতে (গোলাপী রঙের চিহ্নিত অংশ) দেখা যাচ্ছে যে, আনসারুল্লাহ বাহিনী বন্দর মোখা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালীর সম্পূর্ণ উপকূলীয় আধিপত্য অর্জনের লক্ষ্যে ওই এলাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই উপকূলীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে নিজেদের হাতে নিতে পারলে তা লোহিত সাগরের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানে তাদের প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
