🇮🇷 🇺🇸 🇸🇦 🇧🇭 চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা গোপন সিআইএ (CIA) স্টেশনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
দুটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন দূতাবাস কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এর একটির আঘাতে দূতাবাসের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং ভেতরের অংশ ধোঁয়া ও কাঠামোগত ক্ষতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুরুতে একে ‘সীমিত আগুন ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল, তবে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক নথিতে এর তীব্রতা বেশ বেশি ছিল বলে প্রকাশ পায়।
রিয়াদের মূল মার্কিন দূতাবাসের সুরক্ষিত সীমানার ভেতরেই এই ইন্টেলিজেন্স হাব বা স্টেশনটি অবস্থিত ছিল। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) পরবর্তীতে এই অঞ্চলে মার্কিন রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা স্বীকার করে।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র কৌশলগত বিতর্ক শুরু হয়। সিএনএনসহ বিভিন্ন মাধ্যম জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নিখুঁত ও ধারাবাহিক ড্রোন-মিসাইল হামলার মুখে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, তা এই হামলাগুলো উন্মোচন করে দিয়েছে। এর ফলে সেন্টকমকে (CENTCOM) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি ও পুনর্বিন্যাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
এই সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে সেনা সরিয়ে নেওয়া বা বিকল্প ব্যবস্থা করার ওপর পেন্টাগনকে নতুন করে জোর দিতে দেখা গেছে।
ইরানের নিখুঁত ও তীব্র হামলায় বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই স্থাপনাগুলো হুবহু আগের মতো পুনর্নির্মাণ করা হবে নাকি স্থায়ীভাবে সৈন্য ও কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হবে—পেন্টাগন ও সেন্টকম (CENTCOM) এখন সেই কঠিন হিসাব-নিকাশের মুখোমুখি। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী অবকাঠামো বজায় না রেখে বিকল্প উপায়ে বা দূরবর্তী অবস্থান থেকে অপারেশন পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন পঞ্চম বহরের ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হলো বাহরাইন। এই ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানার পর মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা (যেমন চিফ অব ন্যাভাল অপারেশনস অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কর্মীরা সহসা বা ‘শীঘ্রই’ সেখানে ফিরে যাচ্ছেন না। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ও অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আগের মতো স্থায়ী উপস্থিতি রাখা সম্ভব নয়।
গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যে স্থায়ী ও বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এই সংঘাতের পর তা বজায় রাখা কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির সামনে উপসাগরীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে গড়ে ওঠা এই ঘাঁটিগুলোর চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্বলতা প্রমাণিত হওয়ার পর, সেন্টকম বিকল্প কৌশল বা সেনা হ্রাসের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সি এন এন