🇾🇪 🇸🇦 মোখা (Mocha) বন্দর এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলো হাতছাড়া হলে বা আনসারুল্লাহ (হুথি) বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সৌদি সমর্থিত জোট এবং সরকারপন্থী বাহিনীগুলো সামরিক, কৌশলগত ও ভূরাজনীতিতে মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী ক্ষতির মুখে পড়বে।
মোখা শহরটি বর্তমানে সৌদি সমর্থিত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত তারেক সালেহের নেতৃত্বাধীন জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনী এবং রিপাবলিকান গার্ডের মূল সামরিক সদরদপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি হাতছাড়া হলে তাদের প্রধান কমান্ড সেন্টার ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়বে।
মোখা বন্দর হলো সৌদি জোটের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক ও স্থল রুট। এই অঞ্চল হাতছাড়া হলে দক্ষিণাঞ্চল ও তাইজ থেকে উপকূলীয় এলাকার মধ্যকার যোগাযোগ এবং সাপ্লাই চেইন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
মোখা লোহিত সাগরের কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালীর খুব কাছে অবস্থিত। এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ আনসারুল্লাহ বাহিনীর হাতে চলে গেলে লোহিত সাগরে সৌদি জোট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর তাদের চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা কৌশলগতভাবে বিরোধীদের চরম দুর্বল করে তুলবে।
তাইজ শহরের ওপর দীর্ঘদিনের যে সামরিক চাপ রয়েছে, মোখা ও এর আশপাশের সংযোগস্থলগুলোর পতন ঘটলে তাইজ অভিমুখে সরকারি বাহিনীর যেকোনো ধরণের পাল্টা আক্রমণ বা অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টা চিরতরে ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।
মোখা বহু দিন ধরে সরকারপন্থী যোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় এবং শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড হাতছাড়া হওয়া মানে সৌদি জোটপন্থী মিলিশিয়া ও যোদ্ধাদের মনোবল মারাত্মকভাবে ভেঙে যাওয়া, যা তাদের সারিবদ্ধ প্রতিরোধকে ধসিয়ে দিতে পারে।
মানচিত্র অনুযায়ী, শেরাজাহ জংশন থেকে মোখা বন্দর বা উপকূলীয় শহরটির মূল এলাকার দূরত্ব প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটারের মতো। এই পুরো পথটি তাইজ-মোখা হাইওয়ে এবং এর আশপাশের পাহাড়ি ও সমতল এলাকার ভেতর দিয়ে বিস্তৃত।
এই দূরত্বটুকু অতিক্রম করতে হলে আনসারুল্লাহ বাহিনীকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্ত ঘাঁটি পার হতে হবে। বিশেষ করে মাকবানাহ (Maqbanah) এবং আল-বারাহ (Al-Barah) এর মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং হাইওয়ের বাকি অংশ নিজেদের কব্জায় নিতে হবে, যেখানে সরকারি বাহিনী ও জোটপন্থী মিলিশিয়ারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি তাইজের আল-কুদাহ ও মাকবানাহ ফ্রন্টে আনসারুল্লাহ বাহিনী এবং সৌদি সমর্থিত যৌথ বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াই ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। সরকারি বাহিনী এই অগ্রাভিযান ঠেকানোর জন্য পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করায় লড়াই বেশ তীব্র রূপ নিয়েছে।
মোখা বন্দরটির পতন ঘটলে সৌদি সমর্থিত বাহিনী বা তারেক সালেহের নেতৃত্বাধীন জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনীকে আক্ষরিক অর্থেই সামরিক ও কৌশলগতভাবে পরাজয়ের খুব কাছাকাছি বা চরম বিপদের মুখে পৌঁছে গেছে বলে গণ্য করা চলে।
