🏳️ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সেমিনারি ‘খাতম আল-নাবিয়ীন’-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান প্রশাসন। সরকারি জমি দখল ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অজুহাত দেখিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি দখল করার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরুর দিকে তালেবানের বিচার ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সশস্ত্র বাহিনী খাত্তম আল-নাবিয়ীন বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর আশপাশের চত্বর ঘিরে ফেলে। প্রতিষ্ঠানটি খালি করার এই নির্দেশের তীব্র প্রতিবাদ জানান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।#নির্দেশের পর শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করলে তালেবান নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হয়। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শিয়া আলেমকে পিটিয়ে আহত ও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল গেট, লাইব্রেরি ও মসজিদ সিলগালা করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেন।
স্বকীয়তা হারিয়ে সুন্নি ও তালেবানি কাঠামোর রূপান্তরবিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্যগতভাবে শিয়া মতাদর্শ ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ওপর জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর স্বকীয়তা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তালেবান প্রশাসন ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মূল পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি, শিয়া অ্যাকাডেমিক সিলেবাস বাতিল করে সেখানে হানাফি ফিকহ এবং তালেবানের অনুমোদিত কড়াকড়ি নিয়মকানুন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য লিখিত মুচলেকা দেওয়ার শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত জুন মাস থেকেই খাতম আল-নাবিয়ীন কমপ্লেক্স এবং এর সাথে যুক্ত গণমাধ্যম ও সম্পত্তিগুলো নিয়ে তালেবানের সঙ্গে শিয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘ টানাপোড়েন চলছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাবুলের এই শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি তালেবানের জবরদস্তিমূলক নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় দেশটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল, আমু টিভি, আফগান আই আরইএ নিউজ এজেন্সি,
