🇺🇸/🇮🇷 গতকালের প্রকাশিত ফুটেজে ইরান প্রথমবারের মতো জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চ করেছে। এখন পর্যন্ত, ইরান এই অত্যাধুনিক অস্ত্র (সম্ভবত খলিজ-ই-ফার্স এএসবিএম) ব্যবহার করা থেকে বিরত ছিল, কারণ তারা আশঙ্কা করেছিল যে এটি একটি ব্যাপক মার্কিন প্রতিশোধমূলক হামলাকে উস্কে দেবে।
তবে রণতরীটিতে কোনো আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়নি, কিন্তু সেন্টকম স্বীকার করেছে যে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে আত্মরক্ষামূলক কৌশল অবলম্বন করতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
খলিজ-ই-ফার্স (ফার্সি ভাষায় যার অর্থ ‘পারস্য উপসাগর’) হলো ইরানের তৈরি একটি স্বল্পপাল্লার সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল (ASBM)। এটি মূলত ইরানের অত্যন্ত সফল ও পরীক্ষিত সলিড-ফুয়েল চালিত ‘ফাতেহ-১১০’ (Fateh-110) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
খলিজ-ই-ফার্স মিসাইলটি বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় ম্যাক ৩ (শব্দের গতির তিন গুণ) বা তারও বেশি গতি অর্জন করতে পারে। এর গতি এবং বিপুল কাইনেটিক এনার্জির কারণে এটি চলমান যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অত্যন্ত মারাত্মক।
এই মিসাইলটির আনুমানিক পাল্লা বা অপারেশনাল রেঞ্জ হলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৬০ থেকে ১৯০ মাইলের মতো), যা পারস্য উপসাগর এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বড় একটি হুমকি। এতে প্রায় ৬৫০ কেজি ওজনের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রচলিত (Conventional) বিস্ফোরক ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ ব্যালিস্টিক মিসাইল নির্দিষ্ট স্থির লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও, খলিজ-ই-ফার্স বিশেষভাবে চলমান যুদ্ধজাহাজকে টার্গেট করার জন্য তৈরি। নিখুঁতভাবে জাহাজ শনাক্ত ও তা অনুসরণের জন্য এতে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সিকার (Electro-optical/Infrared seeker) প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া এর শেষের দিকে গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা বা ম্যানুভারিং রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (MaRV) প্রযুক্তি একে শত্রুর মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম ফাঁকি দিতে সাহায্য করে।
উল্লেখ্য যে লোহিত সাগর সংকটের সময়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাকে ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’ বলেছিল, সেই অভিযানে বেশ কয়েকটি হুথি জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউএসএস ট্রুম্যান বিমানবাহী রণতরীর এত কাছে চলে এসেছিল যে, রণতরীটি তীব্র বাঁক নিতে বাধ্য হয়, যার ফলে একটি এফ/এ-১৮ ‘হর্নেট’ বিমান সমুদ্রে পড়ে যায়।
তবে মার্কিন নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুদ্ধজাহাজটির হ্যাঙ্গার বে (hangar bay)-তে যুদ্ধবিমানটি টো বা টেনে নেওয়ার সময় ক্রুরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার ফলে বিমানটি এবং একটি টো ট্র্যাক্টর সাগরে পড়ে যায়।
অনেক ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ থেকে বাঁচতে বিমানবাহী রণতরীটিকে আকস্মিক তীব্র গতিপথ পরিবর্তন (sharp evasive maneuver) করতে হয়েছিল। আর সেই আকস্মিক ও তীব্র ঝাঁকুনি বা বাঁকের কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে ছিটকে পড়েছিল। #সাধারণ জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের বিপরীতে, জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর জন্য একটি সত্যিকারের ও গুরুতর হুমকি, এবং ইরানের দ্বারা এর ব্যবহার পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: মিলিটারি টাইমস, Middle East Spectator
