🇩🇪 জনমত জরিপ অনুযায়ী, রাজ্যটিতে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি (AfD) দলটির বিপুল সমর্থন রয়েছে। জার্মানির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এতদিন এই দলের বিরুদ্ধে শক্ত ‘ফায়ারওয়্যাল’ বা প্রতিরোধ দেয়াল তৈরি করে রাখলেও, বর্তমান পরিস্থিতি সেই দেয়ালকে প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এটি জার্মান রাজনীতিতে একটি বড় মোড় পরিবর্তন হতে পারে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাক্সনি-আনহাল্ট ও ম্যাগডেবার্গ শহরে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বামপন্থী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো (যেমন—’Widersetzen’ বা অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক) নির্বাচনের পর রাজ্য সংসদ ভবন বা রাজনৈতিক কার্যালয় ঘেরাও বা দখলের মতো কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে রয়েছে।
এএফডি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়ী হয় বা সরকার গঠনের মতো নিরঙ্কুশ বা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে, তবে কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলো তাদের ক্ষমতা সীমিত করতে নানা অশ্বিকৃত বা কঠোর রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপের কথা চিন্তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান থেকে তাদের দূরে রাখা, রাজ্যকে আর্থিকভাবে চাপে ফেলা কিংবা নজিরবিহীনভাবে ‘বুন্দেসৎসোয়াং’ (Bundeszwang বা ফেডারেল জবরদস্তি) এর মতো সাংবিধানিক ধারা প্রয়োগের আলোচনা।
জার্মানির মূলধারার দলগুলোর তৈরি করা ‘ফায়ারওয়্যাল’ বা প্রতিরোধ দেয়াল মূলত এমন এক রাজনৈতিক ঐকমত্য, যার মাধ্যমে সমস্ত প্রথাগত দল (যেমন—সিডিইউ, এসপিডি, গ্রিনস ইত্যাদি) কসম বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে যে তারা উগ্র ডানপন্থী দল এএফডি (AfD)-র সাথে কখনো কোনো ধরনের কোয়ালিশন বা সরকার গঠন করবে না এবং তাদের রাজনৈতিকভাবে একঘরে বা বয়কট করে রাখবে।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দেয়ালটি যেভাবে ভাঙনের মুখে পড়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে ছোটখাটো ব্যবধানে অন্য দলগুলো জোট করে এএফডিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে পারত। কিন্তু সাক্সনি-আনহাল্টের মতো রাজ্যে এএফডি যেভাবে জনমত জরিপে প্রায় ৪১-৪৩% ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে, তাতে প্রথাগত দলগুলোর পক্ষে সংখ্যাগতভাবে তাদের এড়িয়ে যাওয়া বা বিকল্প জোট গড়ার অঙ্ক মেলানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটি এককভাবে বা এমন একপর্যায়ে পৌঁছে গেছে যেখানে প্রচলিত দলগুলোর সম্মিলিত সংখ্যাও তাদের রুখে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
আগামীকালের অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, এই নির্বাচন কেবল একটি রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং তা পুরো জার্মানির জাতীয় রাজনীতি এবং আগামী ফেডারেল নির্বাচন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
