🇸🇾 ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নৃশংসতা এবং যুদ্ধাপরাধের অসংখ্য অভিযোগ ওঠে।
শান্তিপূর্ণ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়ন, নির্বিচারে হত্যা, এবং ব্যাপকহারে নির্যাতন চালানোর মূল হোতা হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এই দীর্ঘ সংঘাতে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু এবং কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার পেছনে আসাদ পরিবারের সরাসরি ভূমিকা ও হুকুমদাতা হিসেবে দায়বদ্ধতা খুঁজে পায় আদালত।
আদালত এই মামলায় প্রধান তিনজন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে:
🔹বাশার আল-আসাদকে (সাবেক প্রেসিডেন্ট) অনুপস্থিতিতে (in absentia) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছেন।
🔹মাহের আল-আসাদ (বাশারের ভাই ও সামরিক কমান্ডার): তিনি সাবেক সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রভাবশালী এলিট ফোর্স ‘চতুর্থ ডিভিশনের’ প্রধান ছিলেন। তাকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
🔹আতেফ নাজিব (বাশারের চাচাতো ভাই): তিনি সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন এবং ২০১১ সালের শুরুতে দরআয় বিক্ষোভে প্রথম দমন-পীড়নের পেছনে তার ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে সিরীয় সরকারের হেফাজতে বন্দি রয়েছেন।
যেহেতু বাশার ও মাহের আল-আসাদ দেশত্যাগ করেছেন, তাই এই রায়ের পর তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হতে পারে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সপরিবারে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পালিয়ে গেছেন এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।
সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই রায়কে অনেকে দীর্ঘদিনের নির্যাতিত ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের ক্ষেত্রে এই রায় কার্যকর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
