🇮🇷 🇺🇸 এপ্রিল মাসে ইরান একটি আমেরিকান এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার জন্য বেশ জটিল এবং আধুনিক একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল।
ইরান 🇺🇦 ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই ড্রোন ট্যাকটিক্সটি তৈরি করেছে বলে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইরান আমেরিকান যুদ্ধবিমানটি যে এলাকায় প্রবেশ করেছিল, সেখানে ড্রোনগুলোর একটি বিশাল বহর বা ‘সোয়ার্ম’ মোতায়েন করেছিল। এই ড্রোনগুলো মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিল।
ড্রোনগুলো তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে ইরানি কমান্ডারদের সরবরাহ করছিল, যার ফলে তারা বিমানটিকে শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়:
🔹বিমানটির সঠিক জিপিএস অবস্থান।
🔹বিমানটির গতি।
🔹বিমানটির গতির দিক।
ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরান একটি কাঁধে বহনযোগ্য (shoulder-fired) সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করে বিমানটিকে আঘাত করে। এফ-১৫ই বিমানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাত্র অর্ধেক সেকেন্ডের সতর্কতা দিতে পেরেছিল, যা হামলাটি প্রতিহত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
মার্কিন সামরিক তদন্ত বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো মডেলের ম্যানপ্যাডের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটিকে সাধারণত একটি চীনা-নির্মিত ম্যানপ্যাড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলট এবং ওয়েপনস অফিসার দুজনেই সফলভাবে ইজেক্ট করতে পেরেছিলেন। পাইলট দ্রুত উদ্ধার পেলেও ওয়েপনস অফিসার প্রায় দুই দিন ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে ছিলেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের একটি সাহসী অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।
মূলত, আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সাথে পুরোনো ধাঁচের ম্যানপ্যাড (MANPADS) বা কাঁধে বহনযোগ্য মিসাইলের এমন সমন্বয় যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি ভয়াবহ প্রমাণ।
তথ্যসূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
