🇮🇷 🇧🇬 🇺🇸 জুলাই মাসের শেষের দিকে বুলগেরিয়ার সংসদ তাদের দেশের ‘বেজম্যার এয়ার বেস’-এ (Bezmer Air Base) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কেসি-১৩৫ (KC-135) রিফুয়েলিং বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং সৈন্য মোতায়েনের অনুমতি দেয়। এই বিমানগুলোর উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অপারেশনগুলোতে সহায়তা করা। ইরান শুরু থেকেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং বুলগেরিয়াকে সতর্ক করে বলে যে, মার্কিন সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিলে বুলগেরিয়াও আগ্রাসনে অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হবে।
বুলগেরিয়ার স্থানীয় জনগণ এবং আশপাশের গ্রামের মানুষ এই মার্কিন উপস্থিতির কারণে ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এর ফলে তাদের অঞ্চলটি ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এ নিয়ে সেখানে বড় ধরনের প্রতিবাদ ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচিও পালিত হয়।
ইরানের চাপ ও হাইব্রিড অপারেশন: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রকাশ পায় যে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান বুলগেরিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার কথা বিবেচনা করছিল। বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরবর্তীতে জানান যে ইরান ও তাদের স্থানীয় সহযোগীরা মিলে একটি কার্যকরী ‘হাইব্রিড অপারেশন’ পরিচালনা করেছে, যার ফলে বুলগেরিয়ার ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়।
এই তীব্র ভূরাজনৈতিক চাপ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে বুলগেরিয়া সরকার শেষ পর্যন্ত পিছু হটে। আগস্টের শেষের দিকে বুলগেরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বেজম্যার বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানগুলো বুলগেরিয়া ত্যাগ করেছে এবং তাদের মিশন আপাতত শেষ হয়েছে। মার্কিন পক্ষ অবশ্য জানিয়েছে যে অপারেশনাল চাহিদার কারণেই বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপ এবং বুলগেরিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদের ফলেই যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তাদের ট্যাংকারগুলো বুলগেরিয়া থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
