🇮🇷🇺🇸 ৮ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনের লড়াইয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার মাটিতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস করেছে।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন মোহেব্বি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন।
এই হামলায় ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন (যার মধ্যে ৮টি একেবারেই নতুন ছিল), একটি হ্যাঙ্গারের ভেতরে থাকা এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ (P-8) বিমান, একটি সি-১৭ (C-17) পরিবহন বিমান এবং ৮টি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই বিমান ও সরঞ্জামগুলো কোথায় ধ্বংস করা হয়েছে বা কোন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
আইআরজিসি (IRGC) মুখপাত্রের দাবিগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (৪৭টি)
এই ক্যাটাগরিতে কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট (Patriot) এয়ার-ডিফেন্স রাডার, এবং বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও আগাম সতর্কবার্তা রাডারসহ মোট ৪৭টি সরঞ্জাম ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে।
২. সহায়তা ও লজিস্টিকস অবকাঠামো (৪৪টি)
এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, সাপোর্ট সেন্টার, জ্বালানি ট্যাংক, অস্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশের গুদাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখার ডিপো।
৩. অপারেশনাল অবকাঠামো (৪৮টি)
এই তালিকায় এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোন হ্যাঙ্গার, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড সেন্টার, বিমানবাহী রণতরীর রিফুয়েলিং প্ল্যাটফর্ম, পি-৮ (P-8) হ্যাঙ্গার, হাইমার্স (HIMARS) লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম এবং ডেটা প্রসেসিং সুবিধাসহ মোট ৪৮টি অবকাঠামো ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে।
৪. আকাশযান ও সরঞ্জাম (৪৯টি)
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই ১৫ দিনের লড়াইয়ে ধ্বংস করা হয়েছে:১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার (মাটিতে থাকা অবস্থায়)।১৭টি ড্রোন (যার মধ্যে ৮টি নতুন)।১টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান (হ্যাঙ্গারের ভেতরে)।১টি পি-৮ বিমান ও ১টি সি-১৭ পরিবহন বিমান।৮টি জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান।৪টি ভারী হেলিকপ্টার ও ৬টি মজুত ক্ষেপণাস্ত্র।
আইআরজিসি-র মুখপাত্রের এই দাবিগুলো স্বাধীন কোনো উৎস বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি আক্রমণের দাবি করে আসছে।
