🇮🇷 🇮🇱 🇺🇸 বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে, ইরান তাদের হাজার হাজার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেলের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জুন ২০২৫-এর সংঘাতের পর ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এটি ইরানের নাটানজ পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এখানে দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে যা গ্রানাইট পাথরের অনেক গভীরে অবস্থিত।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই স্থাপনাটি গ্রানাইট পাথরের কয়েকশ মিনিটের গভীরে অবস্থিত ফলে সাধারণ বাঙ্কার-বাস্টার বোমা দিয়েও এটিকে ধ্বংস করা সম্ভব নয় বলে মনে করা হয় এবং এটি বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত পারমাণবিক কেন্দ্র হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে দুটি বড় সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে যেখানে ইরান উন্নত সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করতে পারে বা পারমাণবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে।
এই স্থাপনায় সেন্ট্রিফিউজগুলো স্থানান্তর করার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে যে, ইরান তাদের বর্তমান ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ব্যবহার করে গোপনে সেগুলোকে অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করার চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই স্থাপনাটিকে একটি সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি হিউ হিউইট শো-তে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করতে যাচ্ছি। ইরানীদের প্রস্তুত থাকতে বলো”।
২০২৫ সালের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ (Operation Midnight Hammer)-এর অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাটানজ এবং ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলায় ঐ স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তবে বর্তমান গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মতে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে রক্ষা করতে এবং নতুন করে সক্রিয় করার লক্ষ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের মতো আরও গভীরে এবং সুরক্ষিত স্থানে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল
