🇨🇳 🇺🇸 🇮🇷 যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর তাদের নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে চীনের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে বেইজিং এর শক্ত জবাব বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বলে আমেরিকাকে সতর্ক করেছে। ব্রিটিশ পত্রিকা ফাইনান্সিয়াল টাইমস (FT)-এর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানকে আরও বেশি অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং তেহরানের সাথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। এই প্যাকেজে চীন ও হংকংয়ের কিছু সত্তাসহ মোট ৬০টি ব্যক্তি, কোম্পানি ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তবে বড় কোনো চীনা ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।#মার্কিন এই হুমকির জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বেইজিং একতরফা ও বেআইনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোর বিরোধী। চীন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি চীনা ব্যবসা বা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় চীন “সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” গ্রহণ করবে।
ইরান মূলত তার উৎপাদিত তেলের একটি বিশাল অংশের ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর নির্ভর করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি বড় চীনা প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকগুলোর ওপর সেকেন্ডারি স্যাংশন (গৌণ নিষেধাজ্ঞা) আরোপ করে, তবে তা বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের বাণিজ্য উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিক এমন এক সময়ে এই উত্তেজনা তৈরি হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আসন্ন বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। তাই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
