🏳️🇺🇸 আফগান তালেবান সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং আফগানিস্তানে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
একই সাথে তারা দেশটির খনিজ সম্পদ এবং অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী জানিয়েছেন যে, তিনি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং দেশের বিভিন্ন খনি ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ দেখতে চান।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করে আসছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশটিতে এখনও সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কা এবং তালেবানের বিভিন্ন নীতির কারণে তারা এই মুহূর্তে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে নয়।
আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মাধ্যমিক স্কুল (ষষ্ঠ শ্রেণির পর) এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর ফলে লক্ষ লক্ষ কিশোরী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, এনজিও এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র থেকে নারীদের বড় একটি অংশকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জনজীবনে অংশগ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
নারীদের ঘরের বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনেক জায়গায় ঘরের বাইরে বের হওয়ার জন্য পুরুষ অভিভাবক বা ‘মাহরাম’ থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া কঠোর পোশাকবিধি এবং জনসমক্ষে নারীদের কণ্ঠস্বর বা গান গাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিভিন্ন ডিক্রি বা আদেশের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের আইনি সমতা সীমিত করা হয়েছে, যা পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষা ও বিচার পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করেছে।
সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং সরকারের সমালোচকদের ওপর নিপীড়ন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, হুমকি এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
