🇮🇷/🇸🇦/🇦🇪/🇶🇦/🇰🇼/🇧🇭/🇴🇲 দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (WSJ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো বাস্তবতা মেনে নিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এখন হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণকে একটি বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, সামরিকভাবে এই নিয়ন্ত্রণ শেষ করা তাদের জন্য সহজ নয়, তাই আলোচনার মূল লক্ষ্য এখন আর এই নিয়ন্ত্রণ ভাঙার দিকে নেই, বরং কীভাবে এই নতুন পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌ-চলাচল বজায় রাখা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
উপসাগরীয় কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, প্রণালীটি পুনরায় সচল করার জন্য যে সমঝোতা বা চুক্তির আলোচনা চলছে, তা প্রকৃতপক্ষে ইরানকেই এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দেবে। তবে তারা একে বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বা “সবচেয়ে কম ক্ষতিকর বিকল্প” বলে মনে করছেন।
ইরান তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী খোলার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরান দাবি করছে যে, মার্কিন 🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের শর্তাবলী—যেমন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার, এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ—মেনে নিতে হবে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আমেরিকার সাথে সমঝোতা ছাড়া তারা প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যেতেও প্রস্তুত।
যদিও 🇴🇲ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশেই চলছে, তবুও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তারা মনে করছে যে, যেকোনো চুক্তি হলেও ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত বা হুমকির ঝুঁকি থেকেই যাবে। এই অনিশ্চয়তার কারণে তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে লোহিত সাগর ও ওমান সাগরের দিকে নতুন পাইপলাইন তৈরি এবং ওই অঞ্চলের বাইরে তেল মজুত করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ স্বীকার করতে অস্বীকার করলেও, যুদ্ধের ফলে সামরিক কৌশলে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে পেন্টাগন উপসাগরের ভেতরে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আমেরিকা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে রুখতে ব্যর্থ হওয়ায়, কার্যত ইরানই এখন হরমুজে প্রভাব বিস্তার করে আছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আর আগের মতো মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর এককভাবে ভরসা করে নেই, বরং বাস্তবতার নিরিখে তারা ইরানের সাথে একটি আপস-মীমাংসার পথে হাঁটছে যাতে অন্তত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখা যায়।
