🇮🇳 🇵🇰 ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের অধীনে কর্মরত ৪৪ বছর বয়সী এক উইং কমান্ডারকে গত ৩০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ দিন বিষয়টি গোপনীয় রাখার পর এই মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে ওই কর্মকর্তা দিল্লির তিহাড় জেলে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে ওই কর্মকর্তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে চ্যাট এবং বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তাদের কথোপকথন ও ভিডিও কল নিয়মিত হতে থাকে। গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই নারী মূলত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার (PIO) হয়ে কাজ করছিলেন এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ওই কর্মকর্তাকে ডিজিটাল ফাঁদে (Honey-trap) ফেলেন।
বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ওই নারী কর্মকর্তার কাছ থেকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোপনীয় নথিপত্র, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন। এমনকি সন্দেহ করা হচ্ছে যে, ওই কর্মকর্তা তার এক সহকর্মীর মোবাইল ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ বা ম্যালওয়্যার ইনস্টল করার চেষ্টা করেছিলেন, যা মূলত রিমোট অ্যাক্সেস বা স্পাইওয়্যার হিসেবে কাজ করে ডেটা চুরি ও লোকেশন ট্র্যাক করতে ব্যবহৃত হয়।
বিমান বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট বেশ কিছুদিন ধরে ওই কর্মকর্তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও ইলেকট্রনিক সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরপর বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করার পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ (Official Secrets Act)-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গত জুলাই মাসের শেষ দিকে এই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ছবি: এ আই