🇺🇸 🇮🇷 🇮🇶 টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কোনো হামলা চালায়নি। অথচ এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন ইরানের উপর ব্যাপক আকারে হামলা হবে।
এদিকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ঘোষণা সত্ত্বেও টানা দুদিন হামলা না চালানো এবং গণমাধ্যমে ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইল’ কমে যাওয়ার খবরটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে লজিস্টিক বা কৌশলগত সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। এটি কেবলই সামরিক কৌশল নয়, বরং একটি বড় যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানোর সতর্কতাও হতে পারে। অনেক সময় বড় অভিযানের আগে এই ধরনের ‘শান্ত অবস্থা’ যুদ্ধের প্রস্তুতির চেয়ে বরং কূটনৈতিক ব্যাকচ্যানেলের আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদির তেহরান সফর এবং তার আগে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে ইরাক একটি ‘বাফার স্টেট’ বা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চাইছে। ইরাক তার নিজস্ব ভূখণ্ডকে যুদ্ধের ময়দান হওয়া থেকে বাঁচাতে মরিয়া। তাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তাপ প্রশমন করা ইরাকের নিজের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
বাগদাদকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করার পেছনে ইরাকের লক্ষ্য হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে সরাসরি সংঘর্ষের পরিবর্তে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে এই নীরবতাকে ‘ঝড়ের আগের শান্ত’ হিসেবে দেখা এবং হামলা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করাটা তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ।
ইরান সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অবিশ্বাসযোগ্য শক্তি হিসেবে গণ্য করে। তাই হামলা না হওয়াকে তারা দুর্বলতা না ভেবে বরং প্রতারণা বা আরও বড় কোনো আক্রমণের নীল-নকশা হিসেবেই বিবেচনা করছে।
এই মানসিকতা থেকে তারা নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের আরও সতর্ক অবস্থায় রেখেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে রয়েছে। যদিও ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকি রয়েছে, কিন্তু ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ঘাটতি এবং ইরাকের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ প্রমাণ করে যে, এই সংকটে সামরিক সমাধানের চেয়ে কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত হওয়ার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো—উভয় পক্ষই কি নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি হবে? ইরাকের মধ্যস্থতার প্রস্তাব যদি ফলপ্রসূ হয়, তবেই একটি বড় ধরণের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব। অন্যথায়, ইরান যে ভয় পাচ্ছে, সেই বর্ধিত হামলা বা ছায়াযুদ্ধের সম্ভাবনা থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজে পাবে না।
