🇮🇷 🇺🇸 ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এটি স্পষ্ট যে, জুলাই ২০২৬-এ পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আগের মাসগুলোতে ইরান মূলত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কৌশলে তাদের ড্রোন এবং পুরোনো মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত বা “ডিগ্রেড” করার চেষ্টা করেছিল।
জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে ইরানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্লেষক এবং সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম, স্যাটেলাইট নেভিগেশন এবং রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগে দেখা যায়নি।
ইরান এখন তাদের উন্নত ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র যেমন “খাইবার” (Khaibar) এবং অন্যান্য উন্নততর মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (MRBM) ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
আগে ইরান মূলত “কস্ট ইনফ্লিকশন” বা প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার কৌশলে থাকলেও, এখন তারা সরাসরি মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আরও শক্তিশালী ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের একটি পর্যায় থেকে তারা এখন আরও আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশলে প্রবেশ করেছে।অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইরানের এই নতুন সক্ষমতার পেছনে উন্নত স্যাটেলাইট ডাটা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তির যোগান থাকতে পারে, যা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা (CEP বা Circular Error Probable কমানোর মাধ্যমে) নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান এখন তাদের কৌশলগত মজুত থেকে আরও উন্নত ও কার্যকর অস্ত্রশস্ত্রের প্রদর্শনী করছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউ আরব, স্মল ওয়ার জার্নাল,
