🇮🇷 🇺🇸 ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে ‘শাজারেহ তাইয়্যেবেহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ভয়াবহ মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাটি চলমান ইরান-মার্কিন যুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক এবং বিতর্কিত বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা। হামলায় অন্তত ১৫৬ থেকে ১৭৫ জনের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ছিল শিশু (প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী), এছাড়া শিক্ষক, স্কুল কর্মী এবং অভিভাবকসহ অনেকে নিহত হন।
৪০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর তদন্তের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন। সিনেটর টিম কেইন, ক্রিস ভ্যান হলেন, ব্রায়ান শ্যাটজ, প্যাটি মারে এবং জ্যাক রিড এর মতো প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটিক আইন প্রণেতারা এই দাবির সামনের সারিতে রয়েছেন।ডেমোক্র্যাটদের মূল অভিযোগ হলো, পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ তা রাজনৈতিক কারণে জনসম্মুখে প্রকাশ করছেন না। তারা একে “তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছেন।এই হামলার পর মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেক সিনেটর পেন্টাগনের কাছে এই ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাদের মূল অভিযোগগুলো ছিল:
🔹কেন স্কুলটি লক্ষ্যবস্তু হলো এবং এর পেছনে কোনো ভুল ছিল কি না?
🔹সামরিক অপারেশনে এআই (AI) টুল ব্যবহারের ঝুঁকি এবং মানুষের হস্তক্ষেপের অভাব।
🔹বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ বা ‘নো-স্ট্রাইক লিস্ট’-এর কার্যকারিতা।
ইচ্ছাকৃত হামলা নাকি দুর্ঘটনা: এই ঘটনাটি পর্যালোচনায় সামরিক বিশ্লেষকরা যে ভয়াবহ দিকটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তা হলো, এটি নিছক একটি যান্ত্রিক বা ভুলবশত হওয়া হামলা ছিল না। ঘটনার বিস্তারিত ও উন্মোচিত রিপোর্টে যে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে তা হল ডাবল-ট্যাপ স্ট্রাই!
প্রথম মিসাইলটি যখন স্কুল ভবনের একাংশে আঘাত করে, তখন সেটি ভুলবশত বা টার্গেটিং ত্রুটির কারণে হতে পারে বলে পেন্টাগন দাবি করেছিল। কিন্তু অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় হলো, প্রথম হামলার কিছুক্ষণ পর যখন উদ্ধারকারীরা ও আশেপাশের স্থানীয়রা শিশুদের বাঁচাতে ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে যান, তখন দ্বিতীয় টমাহক মিসাইলটি একই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।
একটি আধুনিক সামরিক বাহিনী যখন কোনো মিসাইল নিক্ষেপ করে, তখন সেই লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে স্যাটেলাইট ফিড, ড্রোন নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ করা হয়। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় যদি দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থিত থাকে, তবে সেটির পরিচয় পেন্টাগনের ডাটাবেজে না থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই এটিকে ‘ভুল টার্গেট’ বলার চেয়ে ‘অবহেলাজনিত বা পরিকল্পিত হামলা’ হিসেবে দেখাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
সামরিক কৌশলে ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলার লক্ষ্যই থাকে আঘাতের শিকার হওয়া এলাকাটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং উদ্ধারকারী বা সাহায্যকারীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো।
প্রথম হামলার পর দ্বিতীয় মিসাইলটি নিক্ষেপের জন্য যে সময়ের ব্যবধান থাকে, তা কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করে। যদি দ্বিতীয় মিসাইলটি নিক্ষেপ করা হয়, তবে তাকে কোনোভাবেই সাধারণ প্রযুক্তিগত ভুল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া কঠিন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তদন্তের রিপোর্ট সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তা রাজনৈতিক কারণে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হচ্ছে না বা চেপে রাখা হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক আইন প্রণেতারা এটিকে একটি যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করে দ্রুত জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এই বিষয়ে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটরদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। তারা এই ঘটনাটিকে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এবং যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘনের বড় একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সিনেটর ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ডের নেতৃত্বে দুই ডজনেরও বেশি ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর পেন্টাগনের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন, যেখানে তারা আগামী ২০ জুলাই, ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন এবং এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য নথিপত্র কংগ্রেসের কাছে জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
