🇾🇪🇸🇴 ডেইলি টেলিগ্রাফ দাবি করেছে যে, ইয়েমেনীয়রা বাব আল-মান্দাবে ইরানের আধিপত্য এবং লোহিত সাগরের অপর তীরের নিয়ন্ত্রণের মতো একটি পরিস্থিতি বাস্তবায়ন করতে চাইছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মার্কিনপন্থী প্রশাসনের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের সাথে সঙ্গতি রেখে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হচ্ছে। এই কৌশলগত জলপথের উভয় দিকের নিয়ন্ত্রণ লাভের লক্ষ্যে সোমালিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে।
বলা হচ্ছে যে, “হুথিরা” সোমালিয়ার ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। “হুথিরা” কার্যকরভাবে এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ইয়েমেনের হুথিদের সাথে সোমালিয়ার আল-শাবাবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তর এবং প্রশিক্ষণ বিনিময় সংক্রান্ত বৈঠকের খবরও বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
হুথিরা সোমালিয়ায় ড্রোন প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হুথিরা ড্রোন প্রযুক্তিতে বেশ অগ্রসর এবং তারা এই প্রযুক্তি সোমালিয়াসহ অন্যান্য গোষ্ঠীর কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা আল-শাবাবের সদস্যদের ড্রোন প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আল-শাবাব আগে থেকেই নজরদারির কাজে ড্রোন ব্যবহার করে আসলেও, হুথিদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ তাদের এই প্রযুক্তিকে হামলার কাজে ব্যবহারের সক্ষমতা প্রদান করতে পারে, যা সোমালিয়ার পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সোমালিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ইয়েমেন থেকে আসা বেশ কিছু অস্ত্রের চালান জব্দ করেছে, যার মধ্যে ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ এবং বিস্ফোরক পদার্থ পাওয়া গেছে। হুথিরা তাদের ইয়েমেনের ঘাঁটি থেকে আল-শাবাবকে দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল, বিস্ফোরক এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে।
হুথি প্রশিক্ষকরা নিয়মিতভাবে সোমালিয়ার বারি, পূর্ব সানা এবং লোয়ার জুব্বা অঞ্চলে যাতায়াত করে। সোমালিয়ার স্থানীয় লিয়াজোঁ ব্যক্তিরা এই প্রশিক্ষকদের চলাচল এবং অস্ত্র চোরাচালান সমন্বয় করে থাকে। এছাড়া, প্রায় ৪০০ আল-শাবাব যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণের জন্য ইয়েমেনে পাঠানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।এই দুই গোষ্ঠীর সম্পর্ক এখন কেবল প্রয়োজনভিত্তিক নয়, বরং একটি কৌশলগত জোটে পরিণত হয়েছে। হুথিরা আল-শাবাবকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, বিনিময়ে আল-শাবাব তাদের পূর্ব আফ্রিকার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে হুথিদের জন্য সমুদ্রপথে অস্ত্র চোরাচালান ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করছে।
২০০৬ সালের দিকে সোমালিয়ার ‘ইসলামিক কোর্টস ইউনিয়ন’ (ICU) ভেঙে যাওয়ার পর আল-শাবাব একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তারা শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যা প্রয়োগ করে সোমালিয়ায় একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
আল-শাবাব আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার একটি শাখা হিসেবে পরিচিত এবং তাদের সাথে আদর্শিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে।
সোমালিয়ার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকা তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বা সেসব এলাকায় তাদের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, হরমুজ এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালী দুটি একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হলে, যা দিয়ে বিশ্বের বার্ষিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ চলাচল করে, তা জ্বালানি বাজারে একটি ব্যাপক ধাক্কা দিতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
থ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ, United Nations Security Council Panel of Experts on Somalia
