🇮🇷 🇺🇸 ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের অংশ হিসেবে গত কয়েক দিনে বেশ কিছু হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান দাবি করেছে যে তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
🇯🇴 জর্ডান সরকার জানিয়েছে যে, তারা ইরানের ছোড়া বেশ কিছু ব্যালাস্টিক মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করেছে। ইরান জর্ডানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা তাদের দেশ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
স্যাটেলাইট ইমেজ দেখা গেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের সম্পদ যেমন C-17A ও P-8A Poseidon বিমান কোন একটি ঘাঁটি থেকে জর্ডানের কিং হুসেইন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে সরিয়ে নিয়েছে।
২৩ জুন ২০২৬ (ডানদিকের) এর ছবিতে দেখা যাচ্ছে কিং হুসেইন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টারম্যাক এলাকাটি প্রায় খালি দেখা যাচ্ছে।
ছবিতে বড় কোনো উড়োজাহাজ বা ভারী সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ছে না।
কিন্তু ১৩ জুলাই (বামদিকের ছবি) এর ছবিতে দেখা যাচ্ছে সামরিক যানের উপস্থিতি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।
লাল বক্সগুলোতে মোট ৮টি উড়োজাহাজ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি গাঢ় আকৃতির বস্তু দেখা যাচ্ছে, যা C-17A গ্লোবমাস্টার ভারী পরিবহন বিমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।বাকি ৩টি হালকা রঙের আকৃতি P-8A পোসেইডন মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের উপস্থিতিকে নির্দেশ করছে।
🔹 C-17A Globemaster III হচ্ছে একটি ভারী কৌশলগত ও কৌশলগত পরিবহন বিমান (Strategic Airlifter)।
এটি ভারী সামরিক সরঞ্জাম, ট্যাঙ্ক, সৈন্য এবং বড় আকারের ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম।এটি খুব ছোট বা কম উন্নত রানওয়েতেও অবতরণ এবং উড্ডয়ন করতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে বা জরুরি পরিস্থিতিতে রসদ সরবরাহের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
🔹P-8A Poseidon একটি উন্নত মেরিটাইম পেট্রোল এবং রিকনস্যান্স (নজরদারি) বিমান।
এটি মূলত সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধ (Anti-submarine warfare), জাহাজ বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়।
এটি আধুনিক রাডার, সেন্সর এবং টর্পেডোর মতো শক্তিশালী অস্ত্র বহন করতে পারে, যা সমুদ্র এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
গত ১২-১৩ জুলাই ইরান জর্ডান, 🇧🇭 বাহরাইন এবং 🇰🇼কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলার পর মার্কিন বাহিনী তাদের সামরিক সরঞ্জামগুলোকে অধিকতর নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর বা পুনর্বিন্যাস (repositioning) করার প্রয়োজন বোধ করে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের আক্রমণের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন বাহিনী তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ যেমন— P-8A Poseidon নজরদারি বিমান এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত C-17A বিমানগুলো সরিয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বা কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক স্থানগুলোতে, যেমন জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে নিয়ে আসছে।
এই বিমানবন্দরটি মূলত একটি বেসামরিক বিমানবন্দর হলেও, এর কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি সামরিক কাজেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও বাণিজ্যিক রুটগুলোর ওপর নজর রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।
তথ্যসূত্র: চায়না ডেইলি
