বাদাখশানের স্বর্ণ খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তালেবান নেতৃত্বের সাথে জুমা খান ফাতেহ-এর মতপার্থক্য তৈরি হয়। ফাতেহ এক সময় তালেবানের একজন প্রভাবশালী কমান্ডার ছিলেন এবং জাবুল প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তালেবান নেতৃত্ব জুমা খান ফাতেহ-এর প্রভাব কমিয়ে তাকে সরিয়ে দিতে চাইছে। এই লক্ষ্যে সম্প্রতি তালেবানের কেন্দ্রীয় কমান্ড থেকে বড় ধরনের সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা ইউনিট বাদাখশানের দারওয়াজ অঞ্চলের দিকে পাঠানো হয়েছে। বেশ কিছু স্থানীয় কমান্ডারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ফাতেহ-এর অনুগত ব্যক্তিদের নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জুমা খান ফাতেহ তার নিজের শক্ত ঘাঁটি দারওয়াজের নুসাই (Nusay) জেলায় অবস্থান নিয়েছেন। যদিও তিনি জানিয়েছেন যে তিনি কোনো সংঘর্ষের প্রথম পক্ষ হবেন না (“We will not fire the first shot”), তবে তিনি তার অনুগত বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছেন এবং তালেবানের সাথে কোনো নতুন চুক্তিতে বা সমঝোতায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বাদাখশানের পার্বত্য অঞ্চল এবং সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এই এলাকাটি কৌশলগতভাবে খুবই সংবেদনশীল। তালেবান নেতৃত্ব চাইছে অঞ্চলটিতে তাদের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে এবং কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ সামরিক বিরোধ এড়াতে।
তালেবান বাহিনী বর্তমানে ওই এলাকার আশপাশের জেলাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এলাকাটিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
জুমা খান ফাতেহকে বাদাখশানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জাবুল প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল তালেবান নেতৃত্ব। কিন্তু তিনি এই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এরপর তালেবান তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
এর আগে পরিস্থিতি সামাল দিতে তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব জুন মাসের শেষের দিকে বড় ধরনের সামরিক বহর নিয়ে বাদাখশানে সফর করেন। তালেবান প্রধানের নির্দেশে জুমা ফাতেহকে আলোচনার মাধ্যমে বা আত্মসমর্পণের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই আলোচনা সফল হয়নি।
এছাড়াও তালেবানের সেনাবাহিনী প্রধান ক্বারি ফাসিহউদ্দিন ফুরাত হেলিকপ্টারে করে নুসাই জেলায় গিয়ে ফাতেহকে পুলিশ কমান্ড বা ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জুমা ফাতেহ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাকে সরানোর জন্য কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে তিনি অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুমা ফাতেহ এখন নুসাই জেলায় তার শক্ত ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন এবং নিজের অনুগত বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় রেখেছেন। তালেবান বাহিনী বাদাখশানের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক উপস্থিতি ও টহল বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে সেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই সংঘাতের মূলে রয়েছে বাদাখশানের স্বর্ণ খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে অর্থনৈতিক মুনাফা বা রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে তালেবান নেতৃত্বের সাথে ফাতেহ-এর তীব্র মতপার্থক্য। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে তালেবান নেতৃত্বের ওপর রাজনৈতিক চাপও ছিল।
তথ্যসূত্র: আমু টিভি, আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল

2 Comments
https://www.afintl.com/en/202607033664?hl=bn-IN
https://amu.tv/243984/?hl=bn-IN#:~:text=Sources%20told%20Amu%20that%20the,Badakhshan%2C%20according%20to%20the%20sources.&text=Fateh%20is%20also%20the%20Taliban's,in%20Nusai%20district%20of%20Badakhshan.