🇷🇺 🇮🇷 প্রযুক্তির বিবর্তনে এক অদ্ভুত ও বিপরীতমুখী মোড় নিয়েছে। 🇺🇦 ইউক্রেন যুদ্ধে যে ইরান একসময় রাশিয়াকে মৌলিক শাহেদ (Shahed) ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিল, আজ তারাই রাশিয়ার হাত ধরে উন্নত হওয়া সংস্করণের জন্য আবেদন করছে।
রাশিয়া গত চার বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধে এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করে সেগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে এবং বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। প্রাথমিক প্রপেলার-চালিত মডেল থেকে রাশিয়া এখন এগুলোকে জেট-প্রোপালশনে রূপান্তর করেছে, যা আগের চেয়ে অনেক দ্রুতগামী এবং শক্তিশালী।
রাশিয়ার তৈরি আধুনিক জেরাঞ্জ (Geran) ড্রোনগুলোর কিছু সংস্করণে জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। এগুলোতে বড় ওয়ারহেড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গাইডেন্স সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
আধুনিক সংস্করণগুলোতে (বিশেষ করে Geran-5-এ) প্রায় ৯০ কেজি পর্যন্ত ভারী ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক বহন করার ক্ষমতা রয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এছাড়া এগুলোতে থার্মোবারিক ওয়ারহেডের অপশনও রাখা হয়েছে।
এই ড্রোনগুলোতে সাধারণ জিপিএস-এর পরিবর্তে রাশিয়ার গ্লোনাস (GLONASS) নেভিগেশন সিস্টেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা মেশিন ভিশনভিত্তিক টার্গেটিং সিস্টেম এবং উন্নত থার্মাল ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা জ্যামিংয়ের মাধ্যমেও এগুলোকে সহজে বিভ্রান্ত করা যায় না।
জেরাঞ্জ-৪ এবং জেরাঞ্জ-৫ এর কিছু সংস্করণ ফাইটার জেট (যেমন- সুখোই সু-২৫) থেকেও উক্ষেপণ করা সম্ভব, যা এগুলোর কার্যপরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো এখন ড্রোন থেকে ক্রুজ মিসাইলের রূপ ধারণ করছে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান বা সম্ভাব্য সংঘাতে ব্যবহারের জন্য রাশিয়ার কাছে উন্নত প্রযুক্তির জেরান-৫ (Geran-5) সহ জেরাঞ্জ পরিবারের আধুনিক ড্রোনগুলো সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
🇮🇱 ইসরায়েল ও 🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান বা সম্ভাব্য সংঘাতে এই আধুনিক ও গতিশীল ড্রোনগুলো ব্যবহারের লক্ষ্যেই তেহরান এখন মস্কোর কাছে এগুলো চাচ্ছে।
