🇺🇸 🇮🇷 ওয়াশিংটন পোস্টের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে যে হিসাব প্রকাশ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধে তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ ক্যাজুয়ালটি অ্যাকাউন্টিং বা হতাহতের ডেটার সাথে পরিচিত ছয়জন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, জঘন্য এবং ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পিট হেগসেথ। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার চেয়েও খারাপ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং তাদের যোগাযোগ টিম এই প্রতিবেদনের পক্ষে অনড় রয়েছে। তাদের মুখপাত্র অলিভিয়া পিটারসেন স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিবেদনটি অভ্যন্তরীণ হিসাবের ডেটা এবং ছয়জন মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া প্রকাশের আগে হিসাবের এই অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও পেন্টাগন তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, পেন্টাগন সাধারণ জনগণের কাছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে আসছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলা সংঘাতে গোপন বা অপ্রকাশিতভাবে আরও অনেক মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এই রিপোর্টের পেছনে প্রতিরক্ষা বিভাগের (Pentagon) ভেতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশাধিকার রয়েছে এমন ছয়জন মার্কিন কর্মকর্তার সরাসরি বক্তব্য বা তথ্য রয়েছে।
পেন্টাগনের পাবলিক ডেটাবেস বা সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলমান ইরান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন (কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতির সময়ের পরিবর্তন বা কারিগরি কারণে এই সংখ্যাটি সাময়িকভাবে ১৪ জনে নামিয়ে আনা হয়েছিল বলেও গণমাধ্যমে এসেছে)।
ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ ক্যাজুয়ালটি অ্যাকাউন্টিং ডেটা এবং ছয়জন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করেছে যে, প্রকৃত নিহত সেনার সংখ্যা অন্তত ২২ থেকে ২৩ জন। অর্থাৎ, সরকারি তালিকার বাইরে আরও অন্তত ৪ জন বা তার বেশি সেনা নিহত হয়েছেন বা অঞ্চলটিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
সামগ্রিক বা সার্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেন্টাগনের ডেটা বা বিভিন্ন সামরিক হিসাব অনুযায়ী এই সংঘাতে আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৮২০ জনেরও বেশি। তবে মোট আহত সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি বা অনুপাতটি যোগ করলে নতুন মোট সংখ্যাটি দাঁড়াবে হাজারের বেশি।
এই অসঙ্গতি বা লুকোচুরি নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে পেন্টাগনের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু পেন্টাগন কৃত্রিমভাবে বা কৌশলগত কারণে সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর বা ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি।
সাধারণত বড় কোনো মিডিয়া হাউসের বিরুদ্ধে এমন কড়া আক্রমণ আসলে তারা অনেক সময় কিছুটা পিছু হটে বা ব্যাখ্যা দেয়। তবে এক্ষেত্রে ওয়াশিংটন পোস্টের কমিউনিকেশন টিম ও তাদের মুখপাত্র অলিভিয়া পিটারসেন বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের কাছে অভ্যন্তরীণ ডেটা এবং একাধিক বিশ্বস্ত কর্মকর্তার শক্ত প্রমাণ রয়েছে।
