🇩🇪 🇺🇸 🇷🇺 ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেরৎজ-এর সরকার এমন কিছু আইনি প্রক্রিয়া তৈরির পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রয়োজনে ফেডারেল সরকার প্রয়োজনে রাজ্যের ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
এই পরিকল্পনার মূল কারণ হলো, যদি ভবিষ্যতে কোনো রাজ্য সরকারে ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (AfD) দল ক্ষমতায় আসে, তবে তারা যেন রাশিয়ার সাথে কথিত সখ্যতার কারণে ন্যাটোর (NATO) ট্রুপ বা সামরিক সরঞ্জাম চলাচলে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। বিশেষ করে জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো দিয়ে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রুটগুলো যাওয়ার কারণে এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি আমেরিকার ঘাঁটি যাতে বন্ধ করতে না পারে এটাও উদ্দেশ্য।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস AfD-এর সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, কারণ দলটির বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে।
এফডি-এর সহ-সভাপতি টিনো ক্রুপাল্লা (Tino Chrupalla) প্রকাশ্যেই জার্মানি থেকে মার্কিন সৈন্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও জার্মানির মাটি থেকে সমস্ত মিত্রবাহিনীর সৈন্য এবং পারমাণবিক অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এফডি-এর দাবি, জার্মানির উচিত মার্কিন প্রভাব থেকে বেরিয়ে একটি আরও বেশি “স্বাধীন” পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। তারা মনে করে, মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতি জার্মানিকে অপ্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে।
এফডি দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষ নিয়ে আসছে। তাদের অনেক নেতা রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে জার্মানির স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন, যা ন্যাটো (NATO) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূলধারার নীতি থেকে একেবারেই আলাদা।
বর্তমান জার্মান সরকার এবং ন্যাটোর নীতিনির্ধারকরা চিন্তিত যে, যদি কোনো রাজ্য সরকারে এফডি ক্ষমতায় আসে, তবে তারা সামরিক লজিস্টিকস বা ন্যাটোর সৈন্য চলাচলে বাধা দিতে পারে, যা রাশিয়ার সাথে তাদের কথিত বন্ধুত্বের কারণে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো—যেমন রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেট এবং বাডেন-ওয়ার্টেমবার্গ—ঐতিহাসিকভাবেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রধান কেন্দ্রস্থল।
অন্যদিকে এফডি (AfD)-এর জনপ্রিয়তা পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বেশি, যেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির হার পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। এই ভৌগোলিক বৈপরীত্যই বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার অন্যতম একটি কারণ।
