🇸🇦🇾🇪 ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে লয়েড’স অফ লন্ডন (Lloyd’s of London) বাজারের শীর্ষস্থানীয় মেরিন ওয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শীর্ষস্থানীয় জাহাজ বীমা কোম্পানিগুলো ব্রোকারদের জানিয়েছে যে, তারা সৌদি আরবের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজের জন্য লোহিত সাগরে ‘ওয়ার কার্গো ইন্স্যুরেন্স’ প্রদান করবে না।
যেসব জাহাজের সাথে সৌদি আরবের কোনো সম্পর্ক বা ‘সৌদি টাচপয়েন্ট’ রয়েছে, তাদের এই কভারেজের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি বন্দরে যাতায়াত করেছে এমন বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
এটি মূলত লোহিত সাগরে হুথিদের চলমান নৌ-অবরোধ এবং সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর হামলার সরাসরি প্রভাব। হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বীমা কোম্পানিগুলো শুধু প্রিমিয়াম বাড়ানোর পরিবর্তে সরাসরি কভারেজ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে।
লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পরিস্থিতির ফলে ওই অঞ্চলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু জাহাজ হামলার ভয়ে এই পথ পরিহার করে ইউ-টার্ন নিতে বাধ্য হয়েছে।
মেরিন ওয়ার ইন্স্যুরেন্স (Marine War Insurance) হলো এক ধরনের বিশেষায়িত বীমা যা সমুদ্রপথে চলাচলের সময় যুদ্ধ, সংঘর্ষ, সন্ত্রাসবাদ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি থেকে জাহাজ ও এর মালামালকে সুরক্ষা দেয়। সাধারণ মেরিন বীমা সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কভার করে, কিন্তু ‘যুদ্ধ’ বা ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’র মতো ঝুঁকিগুলো সাধারণ পলিসিতে বাদ থাকে। তাই এই অতিরিক্ত সুরক্ষার প্রয়োজন হয়।
হুথিদের হুমকির কারণে লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য বীমা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যে নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
