ইরানের তৈরি সামরিক পরিবহন বিমান ‘সিমোর্গ’ (Simorgh) চূড়ান্ত উড্ডয়ন অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAO) আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে বিমানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক ও কৌশলগত পরিবহনের জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরান এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানি (HESA) এবং আইএএমআই সেন্টার যৌথভাবে এ প্রকল্পের সমন্বয় করছে। নতুন এই লাইট ট্যাকটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফটটি ইরানের বিমান বাহিনীর পুরোনো ‘ফকার-২৭’ (Fokker-27) বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরির দাবি করা হলেও ‘সিমোর্গ’ মূলত ইউক্রেনের তৈরি Antonov An-140 (বা IrAn-140) প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। ২০২২ সালের আগে ইউক্রেনীয় সংস্থা ‘খারকিভ স্টেট এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি’ থেকে প্রাপ্ত যন্ত্রাংশ দিয়ে ইরান প্রায় ১০টি আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমান সংযোজন করেছিল।
পরবর্তীতে ভূ-রাজনৈতিক কারণে ইউক্রেনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বন্ধ হলে ইস্পাহানে অবস্থিত HESA কারখানায় স্থানীয় প্রকৌশলীরা মূল কাঠামোটি পরিবর্তন করেন।
বিমানের পেছনের অংশে একটি বৃহৎ কার্গো র্যাম্প যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভারী যুদ্ধ সরঞ্জাম, সামরিক যান ও প্যালেট লোড করা সহজ হয়।
অ্যারোডাইনামিক লিফট বাড়াতে আগের ট্র্যাপিজয়েডাল ডানা পরিবর্তন করে আয়তক্ষেত্রাকার ডানা ব্যবহার করা হয়েছে।
বিমানের অনুভূমিক স্ট্যাবিলাইজারগুলোকে পরিবর্তন করে ভি-শেপ থেকে পুরোপুরি সমান্তরাল বা ফ্ল্যাট করা হয়েছে।
বিমানটি সর্বোচ্চ ৬ টন ওজনের সরঞ্জাম গ্রহণ করতে পারে এবং এটির গতি ঘন্টায় ৫৩৩ কিলোমিটার।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক বিমান উৎপাদন শিল্প টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টায় সিমোর্গ প্রকল্পকে তেহরানের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উপাদান ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এভিয়েশন খাতকে স্বাবলম্বী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পর্ব সফলভাবে শেষ হলে ২০২৭ সালে ইরানের সামরিক এবং মানবিক ত্রাণ সহায়তা ও পরিবহনে এটি পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র এবং ছবি: প্রেস টিভি
