🏳️🇵🇰 বর্তমান বিশ্বে ড্রোন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা সামরিক শক্তির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এখন তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ড্রোন প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালেবান বর্তমানে এফপিভি (FPV) ড্রোন এবং নতুন রেডিও যোগাযোগ সরঞ্জামের পরীক্ষা চালাচ্ছে। অতীতে কেবল নজরদারির কাজে ড্রোন ব্যবহার করলেও, এখন তারা কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক ড্রোন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তারা এখন নিজস্ব কারখানায় ড্রোন সংযোজন ও তৈরির চেষ্টা করছে। এতে চীনের তৈরি বা অন্যান্য আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ এবং কমার্শিয়াল ফ্লাইট কন্ট্রোলার, জিপিএস মডিউল ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবহার করা হচ্ছে। কাবুলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এই ড্রোনগুলোর ডিজাইন ও উন্নয়নে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে লগার (Logar) এবং কাবুলের মতো এলাকায় ন্যাটোর ফেলে যাওয়া সরঞ্জামের রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সহজ লভ্য যন্ত্রাংশ এবং আফগানিস্তানের দুর্গম পার্বত্য এলাকা গোপন ড্রোন উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য বেশ সহায়ক। এছাড়া, ড্রোন তৈরির খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় তালেবানের পক্ষে তাদের এই সামরিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া বেশ সহজ।
সম্প্রতি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্তে ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও পাকিস্তানের আকাশসীমা সুরক্ষায় শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা রয়েছে, তবুও তালেবানের ছোট ও দ্রুতগতির ড্রোনগুলো শনাক্ত করা তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবান তাদের ড্রোনগুলো কান্দাহার, নানগারহার, পাকতিয়া এবং পাকতিকাসহ ডুরান্ড লাইনের কাছে বিভিন্ন স্থান থেকে পরিচালনা করে থাকে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কোয়েটা, পেশোয়ার, ইসলামাবাদ এবং ওয়াজিরিস্তানের মতো লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তাদের ড্রোন পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে।
তালেবানের ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি অপ্রতিসম যুদ্ধের (Asymmetric Warfare) অংশ। এটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
সোর্স: Small Wars Journal, আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল
