🇧🇩 🇲🇲 🇨🇳 মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং মেগা-প্রজেক্ট নিয়ে যখন দেশের মূলধারার মিডিয়া সরব, তখন দেশের পূর্ব সীমান্তে মায়ানমার-কেন্দ্রিক একটি খবর ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনোযোগ কেড়েছে। মায়ানমারের জান্তাপন্থী বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, আরাকান আর্মির (AA) প্রধান মেজর জেনারেল তোয়ান মারত নাইং বাংলাদেশে গোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষণে বলা হয়, “There are no accidents in geopolitics.” দীর্ঘ সীমান্ত এবং সংঘাতপূর্ণ রাখাইন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখলে এটা স্পষ্ট যে, আমাদের ইন্টেলিজেন্স গ্রিড অত্যন্ত সজাগ। এমন প্রেক্ষাপটে একজন হাই-প্রোফাইল ইনসার্জেন্ট লিডারের অনুপ্রবেশ এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকে নিছক গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে দেখার অবকাশ কম। বরং এটি হতে পারে রাষ্ট্রের সূক্ষ্ম ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ (Strategic Ambiguity)-এর একটি অংশ।
রাখাইন স্টেটের সিংহভাগ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো দীর্ঘমেয়াদী ইস্যুতে নেপিদোর জান্তা সরকারের চেয়ে আরাকান আর্মির সাথে ‘ব্যাক-চ্যানেল’ সম্পর্ক রাখাটা বর্তমান বাস্তবতায় অনেক বেশি প্র্যাগমেটিক। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্র এমনভাবে সহায়তা করতে পারে যাতে প্রথাগত কূটনীতিতে দায় এড়িয়ে চলা যায়, যাকে সামরিক ভাষায় ‘Plausible Deniability’ বলা হয়।
চীনের সাথে অর্থনৈতিক করিডোর বা মেগা-প্রজেক্টের পাশাপাশি ঢাকা সম্ভবত পুবের ফ্রন্টলাইনে নিজস্ব ‘বাফার জোন’ কৌশল বজায় রাখছে। প্রোপাগান্ডা আর বাস্তবতার এই দোলাচলে, এটি কি কেবলই মানবিক সহায়তা, নাকি ভবিষ্যতের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর সাথে একটি ভূ-রাজনৈতিক লিভারেজ—তা সময়ই বলে দেবে।
