🇫🇷 চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্সে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা ‘সান্তে পাবলিক’ (Santé Publique)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই তাপদাহে দেশে ১,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০০৩ সালের পর ফ্রান্সের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও ভয়াবহতা:সরকারি তথ্যমতে, মৃতদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই প্রবীণ নাগরিক (৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী)। চরম তাপমাত্রার কারণে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে হিটস্ট্রোক এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে এই মৃত্যুর হার বেড়েছে। প্যারিসসহ বড় শহরগুলোর জরুরি পরিষেবা বিভাগগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৫টি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জলাশয়ে নামছে, যা থেকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে অনিরাপদ জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৫৫ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া, অত্যন্ত সংবেদনশীল চারটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে উত্তপ্ত গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে। কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রতি বারবার সতর্কবার্তা জারি করলেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুগুলো ঠেকানো যায়নি।
আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:ফ্রান্সের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে দেখছেন। যদিও বর্তমান সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করেছে এবং অনেক জায়গায় ‘রেড অ্যালার্ট’ পরিবর্তন করে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ দেওয়া হয়েছে, তবুও দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে সতর্ক অবস্থা বজায় রয়েছে।
সরকার জনসাধারণকে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, প্রচুর পানি পান করা এবং প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে এবং ডাক্তাররা সার্বক্ষণিক জরুরি সেবার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
