🇮🇷🇺🇸 প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ‘হটলাইন’ চালুর খবর সামনে এসেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক সংঘাত এড়াতে এই ব্যবস্থাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘হটলাইন’ সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে, দুদেশের মধ্যে এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটি এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে যা থেকে বড় কোনো সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর পঞ্চম অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের একটি অংশ। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে ভুল বোঝাবুঝি রোধ করা।
তবে এই হটলাইনের বিষয়টি নিয়ে রহস্য কাটছে না। একদিকে প্রেস টিভি এর গুরুত্ব তুলে ধরছে, অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC)-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জনসমক্ষে এমন কোনো সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: ‘এমভি এভার লাভলি’ জাহাজে হামলায় সবকিছু শুরু হয় গত ২৫ জুন, যখন সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি এভার লাভলি’ ওমান উপকূল দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের কবলে পড়ে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে আইআরজিসি নৌবাহিনী রেডিওর (VHF Channel 16) মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছিল যে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হলে ইরানের অনুমোদিত রুট ও নিয়ম মানতে হবে। এই হুমকির পর বেশ কিছু জাহাজ নিরাপত্তার খাতিরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জবাবআইআরজিসি-র এই কর্মকাণ্ডের জবাবে ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেয়। মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন স্টোরেজ সাইট এবং উপকূলীয় রাডার নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনাকে ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের “বিপজ্জনক আচরণ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
শান্তি প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তাএই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO)-এর উদ্ধার পরিকল্পনা—যার মাধ্যমে প্রায় ১১,০০০ নাবিককে ওই এলাকা থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল—তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ জুনের সমঝোতা চুক্তির পর যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তা আবারও চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ছবি: এ আই
