🇮🇷 🇺🇸 ইরানের একজন পরিচিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক, লেখক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মাহদি খানালিযাদেহ গতকাল একটি বোমা ফাটিয়েছেন।
তিনি বলেন নতুন নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার জন্য একটি ৫-দফা পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা নেতা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে ১০-দফার একটি কাঠামো তৈরি করা হয়, যার সাথে নেতা আরও ৮টি অতিরিক্ত শর্ত যোগ করেন (যার মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল)।
যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ১০-দফার ভিত্তিতে আলোচনায় রাজি হলেও, 🇵🇰ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর তারা অবস্থান পরিবর্তন করে। তবে, নেতার লিখিত নির্দেশ অমান্য করে ইরানি প্রতিনিধি দল গোপনে পারমাণবিক ফাইল নিয়ে আলোচনা করে ফেলে। এটি আমেরিকাকে এই বার্তা দেয় যে, ইরান যুদ্ধের পথ থেকে সরে আসতে মরিয়া এবং চাপ দিলে আরও ছাড় আদায় সম্ভব।
প্রতিনিধি দল যখন নেতার কাছে রিপোর্ট পাঠায়, তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি একে ধর্মীয় ও আইনি দায়িত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) সদস্যরা যুক্তি দেন যে, পারমাণবিক বিষয় ছাড়া আলোচনা সম্ভব নয়, কিন্তু নেতা সাফ জানিয়ে দেন যে এই আলোচনা পরকাল বা ইহকাল—কোনোটিতেই কল্যাণ বয়ে আনবে না।
প্রতিনিধি দল ১০-দফার কাঠামো বাদ দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ১৪-দফার পরিকল্পনায় (ইসলামাবাদ এমওইউ) মনোযোগ দেয়।
SNSC এই নতুন পরিকল্পনা অনুমোদন করে নেতার কাছে পাঠায়। নেতা টানা দুই সপ্তাহ নীরব ছিলেন। যখন কর্মকর্তারা এই নীরবতাকে ‘সম্মতি’ হিসেবে ধরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তখন নেতা প্রত্যেক সদস্যের কাছে ব্যক্তিগত প্রশ্ন পাঠিয়ে চিঠি দেন।
নেতার শর্ত মেনে এবং প্রতিটি ক্লজ কীভাবে কার্যকর হবে—যেমন কিছু নির্দিষ্ট বৈরী মিডিয়া আউটলেট বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি—সেগুলো লিখিত দেওয়ার পরই তিনি এমওইউ-এর অনুমোদন দেন।
খানালিযাদেহর মতে, নেতার বিখ্যাত মন্তব্য “আমার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল”-এর মূল কারণ হলো—তিনি কখনোই এই আলোচনার বর্তমান প্রক্রিয়ার সাথে একমত ছিলেন না। তিনি শুরু থেকেই এই আলোচনার পুরো গতিপথের বিরোধী ছিলেন, কিন্তু SNSC-এর চরম চাপের মুখে তিনি এটি অনুমোদন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এ থেকে বোঝা যায় যখন ট্রাম্প বলেন “ইরানের নতুন নেতৃত্ব আরও ভালো এবং ভিন্ন” তিনি মূলত প্রকৃত নেতা ছাড়া এসএনএসসি-র (SNSC) কয়েকজন সদস্যর কথা বলেছিলেন।
