🇮🇶🇮🇱🇱🇧🇺🇸🇮🇷 মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রণক্ষেত্রে লেবানন থেকে সিরিয়া হয়ে উত্তেজনার আঁচ এখন ইরাকের দিকে মোড় নিচ্ছে।
একদিকে লেবানন সীমান্তে ইরান ও তার মিত্রদের শক্ত অবস্থানের কারণে ইসরায়েলের কৌশলগত সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে সিরিয়ায় রাজনৈতিক রদবদলের পর শুরু হওয়া নতুন অস্থিরতা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে চরম স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
লেবাননের ওপর বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন না চালাতে ইরান একটি সুনির্দিষ্ট ‘রেড লাইন’ বা শর্ত নির্ধারণ করে রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে ইসরায়েল সেখানে পূর্ণমাত্রায় স্থল অভিযান চালানোর ঝুঁকি নিতে পারছে না। সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ই ইসরায়েলকে এই রণক্ষেত্রে পিছু হটতে বাধ্য করছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা (আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি) দেশটির শাসনভার গ্রহণের পর সেখানে শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর কঠোর দমন প্রক্রিয়া ও ব্যাপক ধরপাকড়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সিরিয়াকে ইরান তাদের লজিস্টিক করিডোর হিসেবে ব্যবহার করায়, এই দমন প্রক্রিয়াকে ইরানকে আঞ্চলিকভাবে কোণঠাসা করার অংশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইরাক কি পরবর্তী টার্গেট?
ইরাকে ইরানের অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর প্রভাব রয়েছে। দেশটির অনেক প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী সরাসরি তেহরানের সমর্থনপুষ্ট। সিরিয়ায় জুলানি সরকারের এই নীতি এবং ইরাকি মিলিশিয়া নেতাদের সাথে তার পুরনো বিরোধের প্রেক্ষাপটে, ইরাককে এখন ইসরায়েলের পরবর্তী সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইরাকে যেকোনো ধরনের সামরিক বা গোয়েন্দা কার্যক্রম সরাসরি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
বিশ্বশক্তির এই ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরাক বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থানে রয়েছে। ইরান কি ইরাকে তাদের মিত্রদের রক্ষায় সরাসরি কোনো সামরিক ভূমিকা নেবে, নাকি প্রক্সি যুদ্ধের মাধ্যমেই প্রভাব ধরে রাখবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক দাবা খেলায় প্রতিটি চাল এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
