🇮🇳 কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় অবস্থিত আথোলি পুলিশ স্টেশনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের (Rashtriya Rifles) একদল সদস্য হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর ওপর শারীরিক আক্রমণ এবং থানায় ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, অভিযুক্তদের তালিকায় যাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, কর্নেল এন. অরুণ গান্ধী: ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার, মেজর বিকাশ শর্মা: উক্ত রেজিমেন্টের একজন কর্মকর্তা,নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে।
এছাড়া আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় সেনাসদস্যকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত সেনাসদস্যরা জোরপূর্বক থানায় প্রবেশ করে এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। থানায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং আক্রমণ চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: ২৪ জুন ২০২৬-এ কিশ্তওয়ারের জেলা প্রশাসক (DC) পঙ্কজ কুমার শর্মার কনভয় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় রাস্তার ওপর একটি ব্যক্তিগত গাড়ি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পুলিশের ট্রাফিক দল গাড়িটিকে থামায় এবং আইন ভঙ্গের অভিযোগে সেটি আটক করে আথোলি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়। গাড়িটি এক সেনা সদস্যের ছিল বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর পুলিশ গাড়িটি ছেড়েও দিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সেখানে শান্ত হয়নি। গাড়ি আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।গাড়ি আটকের ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের (17 RR) কিজাই ক্যাম্প থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল আথোলি থানায় চড়াও হয়।
সেনা সদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থানার মূল গেট ও দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে। তারা থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়। থানায় থাকা সরকারি গাড়ি (SDPO, SHO এবং ARTO-র গাড়ি) এবং থানার অবকাঠামোতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
এই হামলায় আথোলি থানার এসএইচও (SHO) অমৃত কোটাচ, এসডিপিও (SDPO) বিজয় কুমার ভগত এবং আরটিও (ARTO) তাসলিম জাভেদ ওয়ানি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা গুরুতর আহত হন। বিশেষ পুলিশ কর্মকর্তা (SPO) সুরেশ কুমারের ঘাড়ে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই ঘটনার তদন্তে পুলিশের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। একজন কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশে একটি সরকারি থানায় পুলিশের ওপর এই ধরণের প্রকাশ্য হামলা ওই অঞ্চলে নজিরবিহীন এবং এটি ভারতের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোর বড় ধরনের ফাটলকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
কিশ্তওয়ার (Kishtwar) কাশ্মীর অঞ্চলেরই একটি জেলা। এটি ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কিশ্তওয়ার জেলার প্রশাসনিক সদর দপ্তর। ভৌগোলিকভাবে, এটি জম্মু বিভাগের অন্তর্ভুক্ত এবং অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কৌশলগত দিক থেকে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কাশ্মীরের অভ্যন্তরে সংযোগকারী পথ হিসেবে কাজ করে এবং এই এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
