মাঠে জাতীয় সংগীত না গেয়ে নীরব প্রতিবাদ, দেশে ফিরলে মৃত্যুর আশঙ্কা — অবশেষে মানবিক ভিসা পেলেন পাঁচ সাহসী নারী
BWDN24 | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ ২০২৬
ইরান-ইসরাইল-আমেরিকা যুদ্ধের আতঙ্কের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিলেন ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য। জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকার করায় ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁদের “যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক” আখ্যা দেওয়া হয়, এবং তাঁদের নীরবতাকে “চরম অসম্মান” বলে বর্ণনা করা হয়। দেশে ফিরলে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্ত নেন।
আশ্রয় পাওয়া পাঁচ খেলোয়াড় হলেন — জাহরা সারবালি আলিশাহ, মোনা হামৌদি, জাহরা ঘানবারি, ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদেহ। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, ফেডারেল পুলিশ তাঁদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর মানবিক ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং ভিসা প্রাপ্তির মুহূর্তে খেলোয়াড়দের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির আবেগ দেখা যায়।
এরপর দলের আরও দুইজন — একজন খেলোয়াড় ও একজন স্টাফ সদস্য — আশ্রয়ের আবেদন করেন। বাকি দলের সদস্যরা ইরানের উদ্দেশে অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করেন যে খেলোয়াড়দের ইরানে ফিরতে বাধ্য করা হবে “ভয়াবহ মানবিক ভুল” এবং অস্ট্রেলিয়া সুরক্ষা না দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের আশ্রয় দেবে। পরে অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত নিলে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজের প্রশংসা করেন।
ইরান সরকার এই ঘটনাকে “মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ” বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকেই বেছে নিলেন এই পাঁচ সাহসী নারী।
BWDN24 | সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
