🇮🇷 🇷🇺 সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে ‘জেরান-৫’ (Geran-5) ড্রোন সরবরাহের অনুরোধের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
আমেরিকান মূল্যায়ন অনুযায়ী, তেহরান একটি বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং রাশিয়ান প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের হামলার কার্যকারিতা বাড়াতে চাইছে।
এই ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
🔹 প্রথম স্তর (৬৫০ কিমি পর্যন্ত): এর মধ্যে রয়েছে 🇮🇶 ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, 🇰🇼 কুয়েতের শিয়ায়েবা বন্দর ও শোধনাগার এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ৫ম ফ্লিট বেস। এই অঞ্চলগুলো সম্পূর্ণ ৯০ কেজি ওয়ারহেডসহ সফলভাবে হামলার উপযোগী এবং ব্যাপক আক্রমণের মুখে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
🔹দ্বিতীয় স্তর (৯৫০ কিমি পর্যন্ত): এই বলয়ে রয়েছে 🇶🇦কাতারের আল-উদিদ ঘাঁটি, 🇸🇦সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটি, 🇯🇴জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক আস-সাফতি ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের আল-জুবাইল ও রাস তানুরা শোধনাগার। এই দূরত্বে ড্রোন তার ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছালেও একটি শক্তিশালী ওয়ারহেড বহন করতে এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
🔹তৃতীয় স্তর (৯৫০ কিমির বেশি): 🇮🇱 ইসরায়েলের রামাত ডেভিড, নেভাটিম, তেল নফ, রামনের মতো বিমানঘাঁটিগুলো এবং 🇨🇾সাইপ্রাসের🇬🇧 ব্রিটিশ ঘাঁটি আক্রোতিরি এর আওতাভুক্ত। তবে পূর্ণ লোড নিয়ে এই দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য ইরাকি প্রক্সি বা ইয়েমেনের মিত্রদের এলাকা থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ করা প্রয়োজন।
ইরান যদি কেবল এয়ারফ্রেম বা ইঞ্জিন নয়, বরং রাশিয়ান সফটওয়্যার, নিয়ন্ত্রণ প্রোটোকল এবং অপারেটর প্রশিক্ষণসহ একটি সম্পূর্ণ সিস্টেমের অনুরোধ করে, তবে তারা আরও কার্যকরভাবে এগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
জেট চালিত এই ড্রোনগুলোর গতির কারণে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেক দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে, যা এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।#এই পরিস্থিতির ফলে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং জাহাজের বিমা খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী জেরান-৫ ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার সব ধরনের বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের (Air Defense Missiles) ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা বৈশ্বিক অস্ত্র ঘাটতিকে আরও তীব্র করে তুলবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে 🇺🇦 ইউক্রেনের মতো দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যারা নিজেদের সামরিক অবকাঠামো রক্ষায় ইতিমধ্যেই বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে ভুগছে।তথ্যসূত্র: রাইবার
